চিত্রশিল্পী রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার সংক্ষিপ্ত জীবনী

জন্মকথাঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্রশিল্প জগতে এক অতি পরিচিত নাম শ্রীঃ রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। তাঁর পিতার নাম – শিকল চান তঞ্চঙ্গ্যা। তঞ্চঙ্গ্যা জাতির শ্রেষ্ঠ বিত্তশালী নিকুঞ্জ মহাজনের নাতী। জন্ম শুক্রবার ২৩ শে জৈষ্ঠ্যমাস ১৩৪৭ বাংলা, ১৯৪১ ইংরেজী। বর্তমান রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি থানাধীন ১২২ নং কুদুবদিয়া মৌজার রাইংখ্যং নদীর তীরে বড়াদম নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালের দিকে চাকুরী জীবনে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর রাঙ্গামাটির অধিনে আমিন। তিনি তিন পুত্রের জনক, তাঁর পুত্রত্রয়- দিব্যেন্দো তঞ্চঙ্গ্যা, অনুপম তঞ্চঙ্গ্যা, দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা।

স্বীকৃতিঃ

চিত্রশিল্পে কৃতিত্বের জন্য ১৯৮১ ইং সনের ০১ জানুয়ারী তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গুণী শিল্পী হিসেবে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। তাছাড়া তিনি ত্রিপিটকের সূত্র বিনয় ও অভিধর্ম উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) শ্রীঃ রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে “বিশ্বকর্মা” হিসেবে উপাধি দেন। বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কর্তৃক তিনি তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা ও বাংলা গানের গীতিকার হিসেবেও স্বীকৃত। লেখক ও চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁকে ১৯৯০ সালে চাকমা রাজ দেবাশীষ রায় কর্তৃক ২০১৪ সালে ভারতের আসামে গৌহাটি শহরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অবদান ও দায়িত্বঃ

১৯৭৯ সালে রাঙ্গামাটি ‘চারুকলা একাডেমি’ একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারী আর্থিক সহযোগীতা ব্যতিরেকে তিন পার্বত্য জেলায় এটি সর্বপ্রথম ও একমাত্র চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্র-ছাত্রী জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘ পুরস্কার লাভ করতে সমর্থ হয়। শ্রীঃ রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা একাধারে যেমন চিত্রশিল্পী আবার অপরদিকে গীতিকার ও কবিও। তিনি ২০০৭ সালের এক এগারোর সময়ে ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে তাঁর হাতে গড়া চারুকলা একাডেমির নির্বাহী প্রধান ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চিত্রশিল্পী যখন লেখকঃ

এ চিত্রশিল্পী যেমন আঁকিয়েছেন তেমনি লিখেছেন। তার প্রত্যেকটা গ্রন্থ আলোচনার দাবিদার এবং তথ্যমূলক। তার প্রকাশিত গ্রন্থ গুলো হলো-

১. চিত্রা (চারুকলা বিষয়ক পুস্তক)- ১৯৮৬।

২. তঞ্চঙ্গ্যা পরিচিতি (মূল পান্ডুলিপি) ১৯৯৫।

৩. তঞ্চঙ্গ্যা জাতি- ২০০০ সালা।

৪. গীত পোই (তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা ও বাংলা গানের বই)- ২০০৪ সাল।

৫. চারুকলা অনুশীলন- ২০১১।

৬. আত্ম চরিতাবলী (জীবনী)- ২০১২।

৭. আলোকিত তঞ্চঙ্গ্যা ভিক্ষু (২০১৮)।

এ গুণী ব্যক্তি বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত লিখছেন এখনো। তিনি শুধু তঞ্চঙ্গ্যা জাতির নয়, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের তথা দেশের গুণীব্যক্তি। স্বজাতি ও আদিবাসী সমাজে তাঁর অবদান অবশ্য স্বীকার্য।

———– ————- ————–

তথ্য সংগ্রহকারী এবং লেখকঃ মিলিন্দ তনচংগ্যা প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক “চালৈন প্রকাশনা পর্ষদ, রাঙামাটি” -সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল।

Toingang
Toingang
Articles: 65

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *